![]() |
| উপন্যাস - অনিশা - এইচ আর হারুন আহমেদ - HR Harun Ahmed |
পর্ব ১
শেষ বার । এক মুমুর্ষ রোগীকে দেখার ইচ্ছা । অন্তরাল থেকে দুর্যোগের চিঠি পেয়ে, বাহিরটা- উপকথার মত সত্যই হাস্যোজ্জ্বল । ভেতরটা ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে তার, মেহেন্দি পাতার মত ।
কাব্য: সিরাজ? গতকাল সারারাত আকাশের মিটমিট করে জ্বলতে থাকা তারাগুলোকে দেখেছি । তবে তাদের পেছনে থাকা অন্ধকার আমি দেখি নি । তোর রক্তাক্ত নিথর দেহের পাশের জায়গাটায় তাজা রক্তের ঘ্রাণ এখনও অম্লান । চোখ দুটো উপরে ফেলা হয়েছে ।
সিরাজ?,,, সিরাজ?- মুখটাও তো থেতলে গেছে তোর, কিভাবে কথা বলবি এখন?
সিরাজ?,,, সিরাজ?- মুখটাও তো থেতলে গেছে তোর, কিভাবে কথা বলবি এখন?
সিরাজ: কাব্য, আজ থেকে আমরা বেস্ট ফ্রেন্ড ।
১৯৮৩ সন । মতিন দৌড়ে দৌড়ে আসছিল কাব্যকে খুঁজতে । তখনও স্কুল ছুটি হয় নি । ১২ টা বাজলে তবেইতো ছুটি হবে । মতিন ভাটিরচর টালিখানিয়া বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে দাড়িয়ে পড়ল । কাব্য,সিরাজ,মতিন ও ফয়সাল, চার বন্ধু ক্লাস চারের ছাত্র । তাদের বয়স তখন ১৬ এর গণ্ডির আশপাশে । টালিখানিয়ায় শিক্ষা ব্যাবস্থা ছিল খুবই নড়বড়ে । তাই তো গাছ তলায় ব্যাড়াহিন চার খুঁটির ধাপড়ি তুলে মাটিতে বসে পড়ানো হয় ।
শিক্ষক পড়াচ্ছেন -
"মানুষ সে তো শ্রেষ্ট জিব নষ্ট ঘড়ি নয়,
থেমে থাকার সময় না হয় কাল দেখা যাবে, করো তুচ্ছ আছে যাহা আজ যত সংশয়।"
"মানুষ সে তো শ্রেষ্ট জিব নষ্ট ঘড়ি নয়,
থেমে থাকার সময় না হয় কাল দেখা যাবে, করো তুচ্ছ আছে যাহা আজ যত সংশয়।"
"কাব্য? কাব্য?" উচ্চস্বরে ডাকছে আর হাপাচ্ছে মতিন ।
"স্কুল ফাঁকি দেওয়ায় আইজো তোরে হালুয়া পেন্ডী দিয়ে মাইরছে নিশ্চয়" । কাব্য বলল ।
'হা হা হা' । সবাই হাসছে ।
"স্কুল ফাঁকি দেওয়ায় আইজো তোরে হালুয়া পেন্ডী দিয়ে মাইরছে নিশ্চয়" । কাব্য বলল ।
'হা হা হা' । সবাই হাসছে ।
"না-রে, তোর আম্মার মেলা জ্বর ।
ধীরেন কাকা কইছে তোর আম্মা আর বাইচবে না ।"
ধীরেন কাকা কইছে তোর আম্মা আর বাইচবে না ।"
কাব্যকে ডেকে তার মায়ের অসুস্থতার সংবাদ জানাতেই তৎক্ষণাৎ সে দৌড়ে বাড়ি ফিরে আসে । ততক্ষণে তার মা অনেকটা অসুস্থ হয়ে পড়েছে । মা- বেনু । বাবা- জমসেদ বেপারী, তার জন্মের এক মাস আগে আত্মহত্যা করেছে ।
- আম্মা, কি হইছে?
- আব্বা, আইসছিস? আয় আমার কাছে আয় ।
- কি হইছে কও না ।
- আমার কিছু হয়নাই রে বাপ ।
হারিত ভাত আছে, খাইয়ে নে । তুই চিন্তা করিস না । এটুকু বলেই "আল্লাহ্" বলে চিৎকার দিয়ে দু-চোখের কোন দিয়ে পানি ছেড়ে দিলেন বেনু । মায়ের এই চিৎকার কাব্যর অন্তরে যেনো ধাঁ করে লাগলো । বাড়িতে অনেক মানুষের সমাগম । কেউ কেউ শিয়রে দাড়িয়ে যেনো তামাশা দেখছে । কেউ কিছু বলছেও না ।
- আব্বা, আইসছিস? আয় আমার কাছে আয় ।
- কি হইছে কও না ।
- আমার কিছু হয়নাই রে বাপ ।
হারিত ভাত আছে, খাইয়ে নে । তুই চিন্তা করিস না । এটুকু বলেই "আল্লাহ্" বলে চিৎকার দিয়ে দু-চোখের কোন দিয়ে পানি ছেড়ে দিলেন বেনু । মায়ের এই চিৎকার কাব্যর অন্তরে যেনো ধাঁ করে লাগলো । বাড়িতে অনেক মানুষের সমাগম । কেউ কেউ শিয়রে দাড়িয়ে যেনো তামাশা দেখছে । কেউ কিছু বলছেও না ।
কাব্য তাড়াতাড়ি সিরাজের বাবা কবিরাজ সেলিম বাবুর কাছে চলে যায় বেনুর চিকিৎসার জন্য । সেলিম বাবু খুবই বদ সভাবের লোক বটে । তাইতো তার বউকে পুরনো টেবিলের পায়া দিয়ে পেটাচ্ছিল । রোজ বউটাকে সে নিয়ম করে মারে । কারনটা হলো জমসেদ বেপারী (কাব্যর বাবা)।
বউটা (ভানু) মাটিতে পরে আছে । কান্না করাও বারণ । এই আইন ভঙ্গ করলে আবার দু-ঘা । সেলিম বাবু ভানুকে পেটাতে পেটাতে একেবারে ঘেমে গেছে । ক্লান্ত শরীরে চেয়ারে বসে ঘনঘন নিশ্বাস নিচ্ছে আর বিড়ি টানছে ।
তন্মধ্যে কাব্যর উপচ্ছিতি ।
- কাকু? দেখেইন না একটু আমার আম্মার কি হইছে ।
- কে?
- আমি কাব্য, সিরাজের বন্ধু ।
- তার মানে তুই জমসেদের ছেলে ।
- হ্যা, আমি জমসেদ ব্যাপারীর ছেলে ।
- আগে আমার জইন্যে এক মগ পানি নিয়ে আয় । কাব্যর অনুপস্থিতিতে শুকুর কে ডাক দিলেন । শুকুর হলো সেলিম বাবুর বড় ভাইয়ের একমাত্র বুদ্ধি-প্রতিবন্ধী সন্তান ( ভয়ংকর পাগল ) ।
- এই নেন পানি ।
পানির মগ হাতে নিয়ে কাব্যর গায়ে ছুড়ে মারলেন । আর শুকুর কে তার দিকে লেলিয়ে দিলেন ।
কাব্য জমসেদ বেপারীর ছেলে এটাই তার অপরাধ । তাই তাকে হেনস্থা করে বাড়ির বাইরে বের করে দেয় ।
তন্মধ্যে কাব্যর উপচ্ছিতি ।
- কাকু? দেখেইন না একটু আমার আম্মার কি হইছে ।
- কে?
- আমি কাব্য, সিরাজের বন্ধু ।
- তার মানে তুই জমসেদের ছেলে ।
- হ্যা, আমি জমসেদ ব্যাপারীর ছেলে ।
- আগে আমার জইন্যে এক মগ পানি নিয়ে আয় । কাব্যর অনুপস্থিতিতে শুকুর কে ডাক দিলেন । শুকুর হলো সেলিম বাবুর বড় ভাইয়ের একমাত্র বুদ্ধি-প্রতিবন্ধী সন্তান ( ভয়ংকর পাগল ) ।
- এই নেন পানি ।
পানির মগ হাতে নিয়ে কাব্যর গায়ে ছুড়ে মারলেন । আর শুকুর কে তার দিকে লেলিয়ে দিলেন ।
কাব্য জমসেদ বেপারীর ছেলে এটাই তার অপরাধ । তাই তাকে হেনস্থা করে বাড়ির বাইরে বের করে দেয় ।
একটা এই বয়সী ছেলে কি বা করতে পারে? সে দৌড়ে তার মায়ের কাছে চলে যায় । সন্ধ্যা নামছে, পশ্চিমের লাল আভা ক্রমশ অন্ধকারে পরিণত হচ্ছে । চারিদিকে ঝিঁঝিঁ পোকা ডাকছে আর শো শো বাতাসের শব্দে মিশে গিয়ে মায়ের চিৎকার যেনো পরিবেশটাকে রহস্যময় করে তুলছে । এমন অবস্থায় বেনু, কাব্যকে বলে পুরনো সিন্দুক খুলে একটি চিঠি বার করতে,
- ও বাপ! এটা খুব যত্নে রাইখবি । হত্যার দুই সেকেন্ড আগে এটা লিখেছিলো তোর আব্বায় ।
কাব্য এসবের কিছুই বুঝেনা, তবে একটা বিষয় তার মাথায় গেঁথে গেছে, সেটা হলো, সবাই যেখানে আত্মহত্যার কথা বলতো, বেনু সেখানে শুধু হত্যা বললো কেনো? এদিকে রাতের অর্ধ প্রহরের সাথে সাথে বেণুও শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে । আর কাব্য'র চিৎকারে শান্ত পাখিগুলো অন্ধকারে উড়াল দেয় ।
কখন যে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে, সে বুঝতেই পারেনি । ফজরের আযানের ধ্বনিতে হুস ফেরে তার ।
জীবনটা যেনো একেবারেই থেমে যায় । তার হৃদয় হৃৎপিণ্ডের চাইতেও অনেক গভীরে রক্ত আর শিরা উপসিরারও অনেক গভীরে যে অস্পর্শ অবিনশ্বর রুহ আছে, সেই রুহ বিন্দু থেকে যেনো একটি কথাই ভেসে আসছে, আর তা হলো-
"মানুষ সে তো শ্রেষ্ট জিব নষ্ট ঘড়ি নয়,
থেমে থাকার সময় না হয় কাল দেখা যাবে, করো তুচ্ছ আছে যাহা আজ যত সংশয়।"
এ তো সুনিশ্চিত অমঙ্গলের ইঙ্গিত ।
সে একটা কথাই ভাবছিল আর তা হলো, কবিরাজের কারণেই তার মা মারা গেছে । তাই সুপ্ত সিদ্ধান্তে অটল । সে অন্ধকারে কবিরাজের ঘরে প্রবেশ করে । হঠাৎ দু পা পিছিয়ে এলো তার । অন্তরে কে যেনো এসে দরাজ কণ্ঠে বলছে - "কাব্য? এটা অপরাধ । এটা খুন" । এটা সম্ভবত তার সুপ্ত আত্মা হবে ।
কাব্য এই সব কিছু উপেক্ষা করে কবিরাজের পুঁটলি থেকে বিষাক্ত ওসুধ ঘুমের ঘোরে কবিরাজকে খাইয়ে দেয় (এই বিষাক্ত ওষুধ তাকে চিনিয়ে ছিল কবিরাজের ছেলে সিরাজ) । তাও যেনো তার তৃপ্তি হচ্ছিল না, কবিরাজ যে পায়া দিয়ে তার বউকে নিয়মিত মারতো,সেই পায়া দিয়ে কবিরাজকে পেটাতে থাকে আর কবিরাজ বিষক্রিয়ায় ছটফট করে মারা যায় । অতঃপর কাব্যকে সবাই ধরে ফেলে । কবিরাজের স্ত্রী ভানু, সে কাব্যকে পালাতে সহায়তা করলেও এক পর্যায় কাব্য ধরা পরে যায় । এরপর যশোরে চালান । শিশু আইন মোতাবেক, জেনে বুঝে কাজটি করায়, এটি হত্যা । আর তাই সবকিছু বিশ্লেষণ করে, তাকে ৮ বছর কারাবাস দণ্ড কার্যকর করে শিশু কারাগারে বন্দী করা হয় ।
কখন যে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে, সে বুঝতেই পারেনি । ফজরের আযানের ধ্বনিতে হুস ফেরে তার ।
জীবনটা যেনো একেবারেই থেমে যায় । তার হৃদয় হৃৎপিণ্ডের চাইতেও অনেক গভীরে রক্ত আর শিরা উপসিরারও অনেক গভীরে যে অস্পর্শ অবিনশ্বর রুহ আছে, সেই রুহ বিন্দু থেকে যেনো একটি কথাই ভেসে আসছে, আর তা হলো-
"মানুষ সে তো শ্রেষ্ট জিব নষ্ট ঘড়ি নয়,
থেমে থাকার সময় না হয় কাল দেখা যাবে, করো তুচ্ছ আছে যাহা আজ যত সংশয়।"
এ তো সুনিশ্চিত অমঙ্গলের ইঙ্গিত ।
সে একটা কথাই ভাবছিল আর তা হলো, কবিরাজের কারণেই তার মা মারা গেছে । তাই সুপ্ত সিদ্ধান্তে অটল । সে অন্ধকারে কবিরাজের ঘরে প্রবেশ করে । হঠাৎ দু পা পিছিয়ে এলো তার । অন্তরে কে যেনো এসে দরাজ কণ্ঠে বলছে - "কাব্য? এটা অপরাধ । এটা খুন" । এটা সম্ভবত তার সুপ্ত আত্মা হবে ।
কাব্য এই সব কিছু উপেক্ষা করে কবিরাজের পুঁটলি থেকে বিষাক্ত ওসুধ ঘুমের ঘোরে কবিরাজকে খাইয়ে দেয় (এই বিষাক্ত ওষুধ তাকে চিনিয়ে ছিল কবিরাজের ছেলে সিরাজ) । তাও যেনো তার তৃপ্তি হচ্ছিল না, কবিরাজ যে পায়া দিয়ে তার বউকে নিয়মিত মারতো,সেই পায়া দিয়ে কবিরাজকে পেটাতে থাকে আর কবিরাজ বিষক্রিয়ায় ছটফট করে মারা যায় । অতঃপর কাব্যকে সবাই ধরে ফেলে । কবিরাজের স্ত্রী ভানু, সে কাব্যকে পালাতে সহায়তা করলেও এক পর্যায় কাব্য ধরা পরে যায় । এরপর যশোরে চালান । শিশু আইন মোতাবেক, জেনে বুঝে কাজটি করায়, এটি হত্যা । আর তাই সবকিছু বিশ্লেষণ করে, তাকে ৮ বছর কারাবাস দণ্ড কার্যকর করে শিশু কারাগারে বন্দী করা হয় ।
পর্ব ২ || হু আর ইউ?
- ধীরেন কাকা, অনবদ্য হয়েছে ।
- শোনো বাবা,
আর মাত্র তিন দিন । তারপর মুক্ত ।
এইতো এক বছর আগে -
- শোনো বাবা,
আর মাত্র তিন দিন । তারপর মুক্ত ।
এইতো এক বছর আগে -
১৯৯০ সন । হু আর ইউ?
-কোন কথা বলে না ।
-কোন কথা বলে না ।
১৪ বছর বয়স হয়েছে তার । বড়ো বোন ইসা । বিয়ে হয়েছে ৫ বছর হলো । ইসার স্বামী আমেরিকায় একটা রেস্টুরেন্টে কাজ করে । বিয়ের পর ঈসাকে নিয়ে আমেরিকায় স্থায়ী বাসিন্দা হয়েছিল । সখের বশে বড় বোনের সাথে সেও এসেছে । বাপ মায়ের খুব আদরের মেয়ে । তাকে তার দুলাভাই খুবই আদর করে । এক গোছা ঝাঁকড়া চুলে যে কি রহস্য আছে! খতিয়ে দেখার প্রবল ইচ্ছা দুলাভাইয়ের । সময়টা সন্ধ্যা নামার আগে । ইসা খুবই কান্না করছিল । চুলগুলো এলোমেলো নাকফুলটাও ভেঙে গেছে । মুখে লাল রক্তের ঢল ।
ঠোঁটের বা দিক দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে । তার আর বুঝতে বাকি নেই যে, বড় বোনকে দুলাভাই মেরেছে । সে জিজ্ঞাস করে,
আপু কি হয়েছে তোমার?
- কথা বলে না ।
বলনা, কি হয়েছে?
- ইসা নিশ্চুপ ।
সে কপালে হাত দিয়ে দেখে জ্বর জ্বর ভাব । সময়ের সাথে সাথে প্রচন্ড জ্বরে আক্রান্ত হয় । কিছুক্ষণ পর তার দুলাভাই আসলো । দোকান পাঠ বন্ধ করতে একটু রাতই হয় । দুলাভাইকে জিজ্ঞাসা করে - কি হয়েছে আপুর?
- আয় দেখাচ্ছি ।
- আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছ
দুলাভাই (দুলাভাইকে কেমন
জানি হিংস্র মনে হচ্ছে ) ।
- আরে আয় না? দেখ, এরা সবাই
আমার কাস্টমার ।
- মানে?
- অত মানে মানে বাদ । প্লিজ! আমার
একটা কাজ করে দিবি? তুইতো অনেক বড় হয়ে গেছিস, তাই না? পারবি না, বল? এদের আজকের রাতটা সামলে নিতে?
ঠোঁটের বা দিক দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে । তার আর বুঝতে বাকি নেই যে, বড় বোনকে দুলাভাই মেরেছে । সে জিজ্ঞাস করে,
আপু কি হয়েছে তোমার?
- কথা বলে না ।
বলনা, কি হয়েছে?
- ইসা নিশ্চুপ ।
সে কপালে হাত দিয়ে দেখে জ্বর জ্বর ভাব । সময়ের সাথে সাথে প্রচন্ড জ্বরে আক্রান্ত হয় । কিছুক্ষণ পর তার দুলাভাই আসলো । দোকান পাঠ বন্ধ করতে একটু রাতই হয় । দুলাভাইকে জিজ্ঞাসা করে - কি হয়েছে আপুর?
- আয় দেখাচ্ছি ।
- আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছ
দুলাভাই (দুলাভাইকে কেমন
জানি হিংস্র মনে হচ্ছে ) ।
- আরে আয় না? দেখ, এরা সবাই
আমার কাস্টমার ।
- মানে?
- অত মানে মানে বাদ । প্লিজ! আমার
একটা কাজ করে দিবি? তুইতো অনেক বড় হয়ে গেছিস, তাই না? পারবি না, বল? এদের আজকের রাতটা সামলে নিতে?
লোকগুলো চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে তার দিকে, মনে হয় চোখ দিয়েই গিলে ফেলবে তাকে ।
একজন তো বলেই ফেললো - "উই আর ভেরি ইনোসেন্ট দ্যাট উই ডোন্ট টর্চার ইউর ওয়াইফ । জাস্ট ফাইভ পারসন ওয়াজ গোইং দেয়ার টুডে ।"
একজন তো বলেই ফেললো - "উই আর ভেরি ইনোসেন্ট দ্যাট উই ডোন্ট টর্চার ইউর ওয়াইফ । জাস্ট ফাইভ পারসন ওয়াজ গোইং দেয়ার টুডে ।"
- ছি! দুলাভাই, তুমি আপুকে দিয়ে এইসব? ছি!
তাই এক বছর থেকে সন্ধ্যা হতেই আপুকে তুমি কোনো একটা গুরুত্বপূর্ন কাজের কথা বলে নিয়ে গিয়ে এইসব করিয়েছো?
- দেখ, এরকম করিস না । আমি এদের থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে খরচ করে ফেলেছি । তাই এরা আমায় মেরে ফেলবে । আমাকে তুই বাঁচাও ।
তাই এক বছর থেকে সন্ধ্যা হতেই আপুকে তুমি কোনো একটা গুরুত্বপূর্ন কাজের কথা বলে নিয়ে গিয়ে এইসব করিয়েছো?
- দেখ, এরকম করিস না । আমি এদের থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে খরচ করে ফেলেছি । তাই এরা আমায় মেরে ফেলবে । আমাকে তুই বাঁচাও ।
তার দুলাভাই তার পা ধরে পাপের রাজ্যে তাকে সোপর্দ করার নেশায় উন্মাদ । দুলাভাইকে সে ধাক্কা দিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায় । আর লোকগুলো তাদের খরিদ করা সম্পত্তির অধিকার আদায়ে বেলা ডুবাতেও প্রস্তুত । এ 'বেলা' সেই 'বেলা' নয় ।
"খিরে ঘুম থেইখা উঠ । বেলা হয়া গেইল ।" এসব বলছিল ইভা উইকস নামে তার একজন ভালো ফ্রেন্ড । সে ধড়ফড় করে ঘুম থেকে জেগে ওঠে । উইকস তখন বলে,
- 'থোর আফু অর দুলাবাইখে খারা জানি, নৃশংসাভাবে
মারিয়া ফেলছে ।'
- হোয়াট?
এরকম লোম হর্শক খবরের জন্য প্রস্তুত ছিল না সে ।
সে চিৎকার করে কান্না করতে থাকে আর বলে আমি ওদের চিনি, একজনকেও আমি ছাড়বোনা ।
- 'থোর আফু অর দুলাবাইখে খারা জানি, নৃশংসাভাবে
মারিয়া ফেলছে ।'
- হোয়াট?
এরকম লোম হর্শক খবরের জন্য প্রস্তুত ছিল না সে ।
সে চিৎকার করে কান্না করতে থাকে আর বলে আমি ওদের চিনি, একজনকেও আমি ছাড়বোনা ।
- "উইকস? উইকস? মাই ডিয়ার! আর ইউ হেয়ার? লিসেন, আই কান্ট কাম ব্যাক টু ডে । টেক কেয়ার ।" উইকসের বাবা বললেন ।
উইকস শুধু 'ওকে' বলে তার বাবাকে বিদায় দিলো ।
উইকসের বাবা চোরাই বন্দুকের ব্যবসা করতো । আর সেটা 'সেও জানতো উইকসও জানতো । উইকসের বাবার অনুপস্থিতিতে তার নজর ওই বন্দুকের দিকে যায় । আর উইকসের চোখ ফাঁকি দিয়ে একটি বন্দুক চুরি করে সে । স্ব-দীপ্ত সূর্য ঢলে পড়ার অপেক্ষায় । রাত নামলো, রাতের আঁধার পুরো শহরে নিজ অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার যুদ্ধে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে । অপরদিকে সে মৃত্যুলিলায় মেতে উঠেছে । তিনজনকে মেরে অবশেষে দেখা মেলে ক্রিস্টোফার নোলানের সাথে । নোলান তাকে না চিনলেও, সে নোলানকে ঠিকই চিনেছে । তার দুলাভাইয়ের একনিষ্ট বন্ধু ছিল এই নোলান । একদিন দুপুরবেলা ইসা তাকে বলেছিল, তুই ওই লোকটার থেকে সবসময় দূরে থাকবি । সে চোখের পলকে চাঁদে কলংক মেশাতে পারে । তাই সে সহজেই বুঝে যায়, নোলানও ওদের দলেরই একজন নিয়মিত কাস্টমার । উইকস তাকে খুঁজতে খুঁজতে এখানে চলে আসে আর এসব দেখে পুলিশকে ইনফর্ম করে । নোলানের পায়ে গুলি করা মাত্রই সেখানে আরো কিছু নরখাদক চলে আসে আর নোলানকে বাঁচিয়ে তাকে বেধে ফেলে । তাকে প্রচুর মারতে থাকে আর জিজ্ঞাসা করে,
- হু আর ইউ?
'কোনো কথা বলে না ।
আরো বেশি করে মারতে থাকে আর আবার জিজ্ঞাসা করে,
- হু আর ইউ?
'কোনো কথা নেই ।
সেই মুহূর্তে পুলিশ চলে আসে আর সবাইকে ধরে ফেলে ।
শেষ বারের মত জিজ্ঞাসা করে,
-হু আর ইউ?
- হু আর ইউ?
'কোনো কথা বলে না ।
আরো বেশি করে মারতে থাকে আর আবার জিজ্ঞাসা করে,
- হু আর ইউ?
'কোনো কথা নেই ।
সেই মুহূর্তে পুলিশ চলে আসে আর সবাইকে ধরে ফেলে ।
শেষ বারের মত জিজ্ঞাসা করে,
-হু আর ইউ?
- আই এম অনিশা । এই বলে পুলিশের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে সেখান থেকে পালায় ।
- ও বাপ? বাপ? এই দেইখো, ঘুমিয়ে পইরলি নাকি? ।
- ধীরেন কাকা, অনবদ্য হয়েছে ।
- আইচ্ছা বাপ, এরপর -
- ধীরেন কাকা, অনবদ্য হয়েছে ।
- আইচ্ছা বাপ, এরপর -
৩৫ দিন পর নিজ মাতৃভূমিকে স্পর্শ করে অনিশা জানিয়ে দেয়, আজ থেকে সে এবং একটি মুক্ত পাখির মধ্যেকার তফাৎ কিঞ্চিৎ অমিল ।
নিজ গর্ভের মেয়েকে চিনতে দেরি হয় না লতার । আনন্দে আত্মহারা হয়ে জিজ্ঞাস করে, ইসা কেমন আছে রে?
তারা আসে নাই? মেলাদিন হইছে তোদেরকে দেখি না । এই মা টার কথা মনে হয়নাই বুঝি?
অনিশা কিছুই বলে না । তাদের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা লতা সহ্য করতে পারবে না । যদিও অনিশা এর জন্য দায়ী করছে নিজের মাকে । সবার দ্বিমত থাকলেও, প্রবাসী দেখে নিজের ১৩ বছরের ঈসাকে বিয়ে দিয়েছিল তার সাথে । ইভা উইকসের ঘুরতে খুবই ভালো লাগে । তাই সে সুদূর আমেরিকা থেকে টালিখানিয়া, অনিশার সাথে এসেছে ।
নিজ গর্ভের মেয়েকে চিনতে দেরি হয় না লতার । আনন্দে আত্মহারা হয়ে জিজ্ঞাস করে, ইসা কেমন আছে রে?
তারা আসে নাই? মেলাদিন হইছে তোদেরকে দেখি না । এই মা টার কথা মনে হয়নাই বুঝি?
অনিশা কিছুই বলে না । তাদের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা লতা সহ্য করতে পারবে না । যদিও অনিশা এর জন্য দায়ী করছে নিজের মাকে । সবার দ্বিমত থাকলেও, প্রবাসী দেখে নিজের ১৩ বছরের ঈসাকে বিয়ে দিয়েছিল তার সাথে । ইভা উইকসের ঘুরতে খুবই ভালো লাগে । তাই সে সুদূর আমেরিকা থেকে টালিখানিয়া, অনিশার সাথে এসেছে ।
- এই সবই তো ।
- কাকা, কাকা লাল রঙের ওজন বলতে পারেন? অথবা সাদা নোনতা পানির মূল্য!
- না-রে বাপ । আইচ্ছা, একটু পরে আইসছি ।
- সাথে যেনো উত্তর তাকে ।
- কাকা, কাকা লাল রঙের ওজন বলতে পারেন? অথবা সাদা নোনতা পানির মূল্য!
- না-রে বাপ । আইচ্ছা, একটু পরে আইসছি ।
- সাথে যেনো উত্তর তাকে ।
মুসলধারে বৃষ্টি হচ্ছে । গ্রামের কাদামাটির পথ-ঘাট যেনো এক অন্য অনুভূতির সৃষ্টি করে । রাস্তার ধারে ধারে আমের মুকুলের সাথে লেপ্টে বেয়ে পরা পানি টপ করে উইকসের নাকের উপর পড়ল । আমের মুকুলের হৃদয় শীতল করা সুবাসে যেনো রবদব করছে চারিপাশ । একটি বছর কেটে গেলেও যেনো মনে হচ্ছে ইভা উইকস এই মাত্র এদেশে এসেছে । সবকিছু অতিক্রম করে ইন্সপেক্টর অনুপমের সাথে দেখা করতে এসেছে অনিশা ও তার আমেরিকান ফ্রেন্ড ইভা উইকস ।
অনিশার বড় ভাই রিজু, ইন্সপেক্টর অনুপমের খুব ভালো বন্ধু । একটা ঘেরা পুরনো বাড়ি আছে যেখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষেধ । সেখানে প্রবেশের জন্য অনুমতি চায় ইন্সপেক্টরের কাছে ।
এমন অবস্থায় জেলের ভিতর থেকে একটা চিৎকার ভেসে আসে । এরা দুজন দৌড়ে যায় সেখানে । একটি পাগল চিৎকার করছিল, সে অনিশাকে দেখে স্তব্ধ হয়ে যায় । ভীষন মুগ্ধতায় তাকিয়ে থাকে । এ যেনো শরতের এক পশলা রোধ তার আঙিনায় ধরা দিয়েছে । ইভা উইকস আমেরিকান হলেও ভাঙ্গা ভাঙ্গা বাংলা বলতে পারে । সে অনিশাকে বলে, অবছেছে খায়েদি থুমার ফাফরির মথো ঠোঁট পছন্দ খরিল । আর হাসতে থাকে । তখন ইন্সপেক্টর বলে, তোমরা যেখানে যেতে চাচ্ছ সেই ভাঙ্গা বাড়িটা হলো এই ছেলেটির । এর নাম হুমায়ূন কবির কাব্য । আজ থেকে সাত বছর আগে একে খুনের অপরাধে ৮ বছরের কারাদণ্ড কার্যকর করা হয় । এর মাকেও খুন করা হয়েছে । কিন্তু সেটা কে করেছে এখনও পুলিশ জানতে পারেনি । কাব্যর অনুরোধে ওই জায়গাটাতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে ।
অনিশার বড় ভাই রিজু, ইন্সপেক্টর অনুপমের খুব ভালো বন্ধু । একটা ঘেরা পুরনো বাড়ি আছে যেখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষেধ । সেখানে প্রবেশের জন্য অনুমতি চায় ইন্সপেক্টরের কাছে ।
এমন অবস্থায় জেলের ভিতর থেকে একটা চিৎকার ভেসে আসে । এরা দুজন দৌড়ে যায় সেখানে । একটি পাগল চিৎকার করছিল, সে অনিশাকে দেখে স্তব্ধ হয়ে যায় । ভীষন মুগ্ধতায় তাকিয়ে থাকে । এ যেনো শরতের এক পশলা রোধ তার আঙিনায় ধরা দিয়েছে । ইভা উইকস আমেরিকান হলেও ভাঙ্গা ভাঙ্গা বাংলা বলতে পারে । সে অনিশাকে বলে, অবছেছে খায়েদি থুমার ফাফরির মথো ঠোঁট পছন্দ খরিল । আর হাসতে থাকে । তখন ইন্সপেক্টর বলে, তোমরা যেখানে যেতে চাচ্ছ সেই ভাঙ্গা বাড়িটা হলো এই ছেলেটির । এর নাম হুমায়ূন কবির কাব্য । আজ থেকে সাত বছর আগে একে খুনের অপরাধে ৮ বছরের কারাদণ্ড কার্যকর করা হয় । এর মাকেও খুন করা হয়েছে । কিন্তু সেটা কে করেছে এখনও পুলিশ জানতে পারেনি । কাব্যর অনুরোধে ওই জায়গাটাতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে ।
ধীরেন অপলক দৃষ্টিতে অনিশার দিকে তাকিয়ে । কি যেনো একটা তার টান অনিশার প্রতি ।
- "আপনি এনাকে চিনেন?" ইন্সপেক্টর জিজ্ঞেস করলো ।
- "না বাপু, আমি কিইচ্ছু জানিনে ।" ধীরেন বলল ।
- " যদি অনুমতি না-ই হয়, তাহলে বেলা ফুরাবার আগেই কেটে পরি ।" অনিশা বলল ।
- "না বাপু, আমি কিইচ্ছু জানিনে ।" ধীরেন বলল ।
- " যদি অনুমতি না-ই হয়, তাহলে বেলা ফুরাবার আগেই কেটে পরি ।" অনিশা বলল ।
যেই বলা সেই কাজ । সোজা ছুটে চললো বাড়ির দিকে । আর তাকে দেখে এমন মনে হলো যেনো কোনো কয়েদি নতুন করে জেল-আয়ু পেলো ।
- কাকা, 'প?'
- আমি জানিনে বাপ । তবে -
- আমি জানিনে বাপ । তবে -
১৯৬৬ সালের ১লা মাস । জমসেদ বেপারী ব্যবসায়িক কাজে অনেক রাত করে ফেলে । একটা ভয়ানক জঙ্গলের ভেতর দিয়ে একটা সরু পথ পেরিয়ে তবেই বাড়ি । আর জঙ্গলে রয়েছে ভয়ানক সব প্রাণী । তাই সে একজন মৌলভীর বাড়িতে আশ্রয় নিতে চাইলে মৌলভী বলে,
- বাবু মাফ করো, এত রাইতত অজানা কাহো মুই কেমন করি বিশ্বাস করং । এমন রাইতোত কাহো বারিত নেওয়া যায় না, বাড়ির অমঙ্গল হয় ।
তোমরা নাহয় চলি যাও ওই পথ ধরি?
- মৌলভী ছাপ! এই ভয়ানক জঙ্গলে মোর মৃত্যু হইবে । নেকড়ে শেয়ালে মোর দেহখান তছনছ করি খাইবে ।
দয়া করো ছাপ, দয়া করো!
- না বাবু, মানে - মোর বড় ভয় হয় ।
- বাবু মাফ করো, এত রাইতত অজানা কাহো মুই কেমন করি বিশ্বাস করং । এমন রাইতোত কাহো বারিত নেওয়া যায় না, বাড়ির অমঙ্গল হয় ।
তোমরা নাহয় চলি যাও ওই পথ ধরি?
- মৌলভী ছাপ! এই ভয়ানক জঙ্গলে মোর মৃত্যু হইবে । নেকড়ে শেয়ালে মোর দেহখান তছনছ করি খাইবে ।
দয়া করো ছাপ, দয়া করো!
- না বাবু, মানে - মোর বড় ভয় হয় ।
মৌলভী সাহেবের ভয়ের একটাই কারণ আর তা হলো, তার যুবতী মেয়ে । গ্রামের মানুষগুলো খুবই সহজ সরল হয়ে থাকে । তারা তাদের জীবন দিয়ে দেবে, তবু নিজেদের মর্যাদাকে দু ফোঁটা নোংরা জলে ডোবাতে দেবে না । যদি এই অজানা অচেনা লোকটাকে থাকতে দেওয়ায় তার মেয়ের কোনো ক্ষতি হয়, তাহলে এর দায়ভার কে নেবে? এই সব কিছুই ভাবছিল মৌলভী সাহেব ।
ঠিক তখনই সেখানে ভানু চলে আসে আর তার বাবাকে বলে,
- আব্বা, লোকটা মনে হয় বিপদত পরছে । আজকের রাইতটা থাইকপের দেও । তুমিইতো কও মানুষক উপকার কইরলে সোয়াব হইবে ।
অন্ধকারে হালকা হারিকেনের আলোয় ভানুর পাঁপড়িসম ঠোঁট, এলোকেশী চুল যেনো ক্ষণিকের জন্য সম্মোহন করে রেখেছে জমসেদ কে । পরদিন তাদের কাছে বিদায় নিয়ে চলে যায় জমসেদ ।
ঠিক তখনই সেখানে ভানু চলে আসে আর তার বাবাকে বলে,
- আব্বা, লোকটা মনে হয় বিপদত পরছে । আজকের রাইতটা থাইকপের দেও । তুমিইতো কও মানুষক উপকার কইরলে সোয়াব হইবে ।
অন্ধকারে হালকা হারিকেনের আলোয় ভানুর পাঁপড়িসম ঠোঁট, এলোকেশী চুল যেনো ক্ষণিকের জন্য সম্মোহন করে রেখেছে জমসেদ কে । পরদিন তাদের কাছে বিদায় নিয়ে চলে যায় জমসেদ ।
ঠিক সেদিনও রাতের বেলা আবার আসে সে । মূলত ভানু কে দেখে খুবই ভালো লেগেছে তার । অনেক চড়াই উতরাই পার করে অবশেষে ভানুও একপর্যায় তাকে ভালোবেসে ফেলে । এক বছর প্রেম চলমান । ভানুর বাবা এটা জানতে পেরে দ্রুত ভানুকে কবিরাজ সেলিম বাবুর সাথে বিয়ে দেয় । এদিকে জমসেদ বিয়ে করে বেনু নামের একজনকে । তবুও তাদের এই সম্পর্ক যেনো শেষ হবার নয় । তাকে নিয়ে ঘর বাঁধার স্বপ্ন ভানু দেখিয়েছিল তাকে।
বেনু ঘুমিয়ে আছে । আজ সে সাত মাসের গর্ভবতী, পেটে যন্ত্রণা হচ্ছিল ভীষন । রান্নাটাও করতে পারেনি । এদিকে জমসেদ ভানুকে চিঠি লিখছিল । তবে,
পেটের ক্ষুধা, জাপ্টে ধরে কলমের শীষ, যেনো অভিকর্ষজ ত্বরণকেও হার মানায় কালি নামাতে । ঠিক এই মুহূর্তে, সুপারি গাছের একটি বাকল তার আঙিনায় খুব শব্দ করে পরে । ভানুকে নিয়ে ধ্যানমগ্ন হয়ে মনের আবেগ মিশিয়ে এক খান পত্র লিখছিল সে । হঠাৎ পেছন থেকে একটা হাত এসে তার মুখ চেপে ধরে । সেই সময় সে ওই হাতে দেখতে পাচ্ছিল, হাত কেটে ব্যাক্তিটি 'প' অক্ষর লিখেছে । আর সাথে সাথে সেই চিঠিতে 'প' অক্ষরটি লিখে নেয় । দুজন বাহুবলে জমসেদ কে বেধে ফেলে, অতঃপর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে চলে যায় । আর গ্রামের মানুষগুলো বলতে থাকে, বেপারী সাব আত্মহত্যা করেছে ।
পেটের ক্ষুধা, জাপ্টে ধরে কলমের শীষ, যেনো অভিকর্ষজ ত্বরণকেও হার মানায় কালি নামাতে । ঠিক এই মুহূর্তে, সুপারি গাছের একটি বাকল তার আঙিনায় খুব শব্দ করে পরে । ভানুকে নিয়ে ধ্যানমগ্ন হয়ে মনের আবেগ মিশিয়ে এক খান পত্র লিখছিল সে । হঠাৎ পেছন থেকে একটা হাত এসে তার মুখ চেপে ধরে । সেই সময় সে ওই হাতে দেখতে পাচ্ছিল, হাত কেটে ব্যাক্তিটি 'প' অক্ষর লিখেছে । আর সাথে সাথে সেই চিঠিতে 'প' অক্ষরটি লিখে নেয় । দুজন বাহুবলে জমসেদ কে বেধে ফেলে, অতঃপর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে চলে যায় । আর গ্রামের মানুষগুলো বলতে থাকে, বেপারী সাব আত্মহত্যা করেছে ।
পর্ব ৩
"এলোকেশী চুল, শ্যামলা বর্নের চক্ষু শীতলকারী মুখ, যুবকের নিয়ন্ত্রণ হারানোর জন্য দায়ী ওই ডাগর ডাগর চোখ, যেনো খোদার নিজ হাতে সময় নিয়ে নিখুঁতভাবে গড়া এক অপরূপ সৃষ্টি আমার মেয়ে। বুজলে ধিরু, মেয়েটাকে বিয়ে দেবার সময় হইছে ।
- লতা দিদি, এটা তোর ভুল সিদ্ধান্ত নয়তো!
- লতা দিদি, এটা তোর ভুল সিদ্ধান্ত নয়তো!
না রে ধিরু, সময় হইলে সবাইকে তো শ্বশুরের বাড়ি যাইতে হয় রে ।
- তা দিদি, অনিশার তো ১৫ মাত্র । আরও উপযুক্ত হইলে না হয় ভাইবা দেইখো।
এখন ছাইড়া দাও এইসব ।
- তা দিদি, অনিশার তো ১৫ মাত্র । আরও উপযুক্ত হইলে না হয় ভাইবা দেইখো।
এখন ছাইড়া দাও এইসব ।
ওসব তুই বুজবি না, যাহ- গরুগুলোকে চারা পানি খাওয়াইয়া একটা লম্বা ঘুম দে । আর কালকে রশিদ চাঁন ঘটকের সাথে দেখা কইরা আসিতে বইলো ।
- আজ্ঞে! দিদি ।
- আজ্ঞে! দিদি ।
টালিখানিয়া গ্রামের পথে ঘাটে শিমুল ফুলের সমারোহ, ফুলের ঘ্রাণে পুরো গ্রাম রবদব করছে । কিছু অজানা পাখি যেনো উড়ে এসেছে সুদূর সাইপ্রাস থেকে । এ গাছ থেকে ঐ গাছ নাচানাচি আর গানে মাতিয়ে রেখেছে গ্রাম । গ্রামের পথ ধরে হাঁটতে না হাঁটতেই চিরুলতা বিল । সেখানে গরে গরে শুকিয়ে যাওয়া কচুরি পানার মাঝে কিছু কচুরি পানার ফুলের সুভাষে নিজেকে লেলিয়ে দিয়েছে অনিশা । ইট পাথরের আমেরিকায় দেয়াল ঘেঁষে মিশে থাকা অবসাদ আর সে যেনো বন্ধি জীবন পার করে খাচা ছেড়ে বেড়িয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে । পানিতে নেমে একটি শাপলা ফুল ছিঁড়ে উঠতেই যাবে, কি যেনো দাগ কাটলো তার মনে । অজান্তে জিহ্বায় কামড় মারায় কমলার মত ঠোঁট বেয়ে রক্ত ঝরতে লাগলো । ক্রিস্টোফার নোলানের কথা মনে পড়লো তার । পুলিশের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে পালানোর সময় তাকে ক্রিস্টোফার নোলান বলেছিল-
"নো ম্যাটার হয়ার ইউ হাইড, বি ইট হ্যাভেন ওর হেল, আই উইল ফাইন্ড ইউ।" সেখানে তখন ইভা উইকস চলে আসে । আর বলে, থুমার বারিথে বিয়ার আমেঝ ছলিথেছে । আমার বিয়া দেখিতে খুবই মজা লাগবে । ছলো আমরা মজা করিব । এটা শুনে অনিশার চন্দ্রদীপ্ত মুখ যেনো অকস্যত কালো হয়ে যায় । সে শুধু মাত্র তার বড় বোন ইসার বিবাহ থেকে অন্তিম দেখেছে । অনিশা অনেক ভয় পেতে থাকে । কারণ, বিয়েকে সে মহামারী হিসেবে চেনে । উইকস অনিশাকে জিজ্ঞাস করে, কি হয়েছে তার । কিন্তু অনিশা শুধু তার মুখের দিকে নিষ্পাপ চোখে তাকিয়ে থাকে । তখন উইকসের কথা ভেবে অন্তরের তীব্র ঝর অন্তরেই রেখে মুখে নাটকীয় হাসির আমেজ তুলে বলে, চলো আমরা খুব মজা করবো, নতুন বর দেখবো । তবে তার নিষ্পাপ মনে ভীষন ভয় । সে ভয় কি এমনি এমনি করে আসে? বর পক্ষ কাকে দেখতে আসছে? কে বা সেই কনে? বাড়িতে তেমন কেউ তো নেই সে ছাড়া, কার বিয়ে দেবে? আছে শুধু একখান চাচাতো প্রতিবন্ধী বোন । সে তো আবার অন্ধ, আর তিতা কথা হজম করবার পারে না । মানে ঝগড়াটে বটে!
মনে হাজার প্রশ্ন দাফন করে এক রাশ হরষে বাড়ি পৌঁছায় ।
"নো ম্যাটার হয়ার ইউ হাইড, বি ইট হ্যাভেন ওর হেল, আই উইল ফাইন্ড ইউ।" সেখানে তখন ইভা উইকস চলে আসে । আর বলে, থুমার বারিথে বিয়ার আমেঝ ছলিথেছে । আমার বিয়া দেখিতে খুবই মজা লাগবে । ছলো আমরা মজা করিব । এটা শুনে অনিশার চন্দ্রদীপ্ত মুখ যেনো অকস্যত কালো হয়ে যায় । সে শুধু মাত্র তার বড় বোন ইসার বিবাহ থেকে অন্তিম দেখেছে । অনিশা অনেক ভয় পেতে থাকে । কারণ, বিয়েকে সে মহামারী হিসেবে চেনে । উইকস অনিশাকে জিজ্ঞাস করে, কি হয়েছে তার । কিন্তু অনিশা শুধু তার মুখের দিকে নিষ্পাপ চোখে তাকিয়ে থাকে । তখন উইকসের কথা ভেবে অন্তরের তীব্র ঝর অন্তরেই রেখে মুখে নাটকীয় হাসির আমেজ তুলে বলে, চলো আমরা খুব মজা করবো, নতুন বর দেখবো । তবে তার নিষ্পাপ মনে ভীষন ভয় । সে ভয় কি এমনি এমনি করে আসে? বর পক্ষ কাকে দেখতে আসছে? কে বা সেই কনে? বাড়িতে তেমন কেউ তো নেই সে ছাড়া, কার বিয়ে দেবে? আছে শুধু একখান চাচাতো প্রতিবন্ধী বোন । সে তো আবার অন্ধ, আর তিতা কথা হজম করবার পারে না । মানে ঝগড়াটে বটে!
মনে হাজার প্রশ্ন দাফন করে এক রাশ হরষে বাড়ি পৌঁছায় ।
"পিন্টু দা, সব ঠিকঠাক তো?
-হ্যাঁ রে ধীরু, সব ঠিক । আমি তো আর তোর মত আইলসে নই । তুই তো খাইস-দাইস আর ঢেঁকুর তুইলে ঘুমাস । কাজে ফাঁকি দেওয়ার জম একটা ।
কি কইলা? আমি কাজে ফাঁকি দেই?
-নাহ! আমি কি তা কইতে পারি? তুই তো খুব ভালো । যেমন তোর কাজ তেমন তোর কণ্ঠ । তুই যে মাঝে মইধ্যে এমন গান করিস, যেনো কাউয়া জাতির অপমান হয় ।
এত বড় অপমান ধম্মে সইবেনা ।"
পিন্টু আর ধীরুর মধ্যে কথা হচ্ছে ।
-হ্যাঁ রে ধীরু, সব ঠিক । আমি তো আর তোর মত আইলসে নই । তুই তো খাইস-দাইস আর ঢেঁকুর তুইলে ঘুমাস । কাজে ফাঁকি দেওয়ার জম একটা ।
কি কইলা? আমি কাজে ফাঁকি দেই?
-নাহ! আমি কি তা কইতে পারি? তুই তো খুব ভালো । যেমন তোর কাজ তেমন তোর কণ্ঠ । তুই যে মাঝে মইধ্যে এমন গান করিস, যেনো কাউয়া জাতির অপমান হয় ।
এত বড় অপমান ধম্মে সইবেনা ।"
পিন্টু আর ধীরুর মধ্যে কথা হচ্ছে ।
আসলে ধীরু, খুব ভালো না হলেও অন্তত আসর জমানোর মত গান গাইতে পারে ।
দওয়ানির বউ, জলদি জলদি রান্নাটা শেষ কইরে নেও । ওরা আইসে পড়ছে ।
- হইছে, আর একটু । মহিষের মাংসের সাথে শশা আর গাজরের সালাদ টা শুধু বাকি ।
এদিকে রশিদ চাঁন এসে পড়েছে বর পক্ষ নিয়ে । কই গো লতা দি, মেয়েটারে লইয়া আইসো ।
- আসছি ।
- হইছে, আর একটু । মহিষের মাংসের সাথে শশা আর গাজরের সালাদ টা শুধু বাকি ।
এদিকে রশিদ চাঁন এসে পড়েছে বর পক্ষ নিয়ে । কই গো লতা দি, মেয়েটারে লইয়া আইসো ।
- আসছি ।
ঘটক রশিদ চাঁন এর মুখে এই কথা শুনে অনিশার বুক যেনো ধক করে উঠে । এদিকে ধীরু তাকে ডাকতে যায় ।
আম্মা, আম্মা? তোমারে দেখতে আইছে । মিষ্টি করে সাইজা-গুইজা__ । এই পর্যন্ত বলেই ধীরুর চক্ষু টলমলে হয়ে গেলো । আসলে সেও চায়না, ভাগনিটারে এত কম বয়সে যুদ্ধ ক্ষেত্রে পাঠাতে । শাশুড়ির হারির ভাত কি এমনি পাওয়া যায় গো? এর জন্যে কত সংগ্রাম?
- মামা, তুমি বুঝাও না মাকে । আমি পরের বাড়ী যামু না আমার ভীষন ভয় করে । এই বলে নিষ্পাপ চোখে অসহায়ের মত তাকিয়ে থাকে ধীরুর দিকে । তবে ধীরুর যেনো কিছুই করার নেই । সে বলে, তুই ক্ষমা কইরা দে আম্মা । আমি নিরূপায় । তোর মায়ের আদেশ মাইনলে তবেই তো পেটে চাইরটে জোটে । এদিকে লতার দরাজ কণ্ঠে দেওয়া আদেশ - অনিশা, আর যেনো একটুও দেরি না হয়, কইয়া দিলাম । অনিশা তার মাকে ভীষন ভয় করে । এইসব দেখে ইভা উইকস যেনো বাক-স্বাধীনতা হারিয়ে প্রতিমার মত দাড়িয়ে আছে । সে বলে,
অনিশা- ফরে না হয় খিচু এখটা খরা যাইবে, এখন তুই রাজি হইয়া জা, ফরে খইয়া দিবি থোর পছন্দ হয় নাই । এক পা দু পা করে এগিয়ে যেতেই তার পিন্টু মামা হাজির । আম্মা? বরের সামনে যাইতে হইলে সাইজা-গুইজা যাইতে হয় । পিন্টু আবার লতার এক বিরাট ভক্ত । সে অনিশাকে সুন্দরভাবে নিজেকে উপস্থপন করতে বলে । অনিশা তাকে উপেক্ষা করে ঘরে ঢুকবেই, চৌকাঠে পা ভেংচি খেয়ে পড়ে যায় । তখনই বর বলে ওঠে, এই অন্ধ মেয়েরে নিয়া যাইয়া কোনো হাল চাষই হইবে না ।
অনিশা আসলে অন্ধই বটে । টানা টানা চোখ যে তার আজ জলে টলমল করছে । হৃদয় চেরা রক্তক্ষরণের ব্যথায় ব্যাধিত এক অসহায় তরুণী । অকস্যাত কালো মেঘের অন্তরালে ঢাকবে বুঝি জীবন পাতা ।
বাঁশের কাবারি দিয়ে নকশা করা এক ধরনের আসনের নাম 'মোড়া' । যেথা এক পুষ্প ফুটিয়া সুভাস ছড়াচ্ছে । টলমল চোখে নিজের হাত টুকুও ভালো মতে দেখতে পাচ্ছে না অনিশা, আর বর পক্ষ তো বহুদূর । সেই বহুদূরে যেনো একদল দড়ি চেরা রাক্ষুসে ষার বুঝি চোখ দিয়ে গিলে ফেলবে তাকে ।
আম্মা, আম্মা? তোমারে দেখতে আইছে । মিষ্টি করে সাইজা-গুইজা__ । এই পর্যন্ত বলেই ধীরুর চক্ষু টলমলে হয়ে গেলো । আসলে সেও চায়না, ভাগনিটারে এত কম বয়সে যুদ্ধ ক্ষেত্রে পাঠাতে । শাশুড়ির হারির ভাত কি এমনি পাওয়া যায় গো? এর জন্যে কত সংগ্রাম?
- মামা, তুমি বুঝাও না মাকে । আমি পরের বাড়ী যামু না আমার ভীষন ভয় করে । এই বলে নিষ্পাপ চোখে অসহায়ের মত তাকিয়ে থাকে ধীরুর দিকে । তবে ধীরুর যেনো কিছুই করার নেই । সে বলে, তুই ক্ষমা কইরা দে আম্মা । আমি নিরূপায় । তোর মায়ের আদেশ মাইনলে তবেই তো পেটে চাইরটে জোটে । এদিকে লতার দরাজ কণ্ঠে দেওয়া আদেশ - অনিশা, আর যেনো একটুও দেরি না হয়, কইয়া দিলাম । অনিশা তার মাকে ভীষন ভয় করে । এইসব দেখে ইভা উইকস যেনো বাক-স্বাধীনতা হারিয়ে প্রতিমার মত দাড়িয়ে আছে । সে বলে,
অনিশা- ফরে না হয় খিচু এখটা খরা যাইবে, এখন তুই রাজি হইয়া জা, ফরে খইয়া দিবি থোর পছন্দ হয় নাই । এক পা দু পা করে এগিয়ে যেতেই তার পিন্টু মামা হাজির । আম্মা? বরের সামনে যাইতে হইলে সাইজা-গুইজা যাইতে হয় । পিন্টু আবার লতার এক বিরাট ভক্ত । সে অনিশাকে সুন্দরভাবে নিজেকে উপস্থপন করতে বলে । অনিশা তাকে উপেক্ষা করে ঘরে ঢুকবেই, চৌকাঠে পা ভেংচি খেয়ে পড়ে যায় । তখনই বর বলে ওঠে, এই অন্ধ মেয়েরে নিয়া যাইয়া কোনো হাল চাষই হইবে না ।
অনিশা আসলে অন্ধই বটে । টানা টানা চোখ যে তার আজ জলে টলমল করছে । হৃদয় চেরা রক্তক্ষরণের ব্যথায় ব্যাধিত এক অসহায় তরুণী । অকস্যাত কালো মেঘের অন্তরালে ঢাকবে বুঝি জীবন পাতা ।
বাঁশের কাবারি দিয়ে নকশা করা এক ধরনের আসনের নাম 'মোড়া' । যেথা এক পুষ্প ফুটিয়া সুভাস ছড়াচ্ছে । টলমল চোখে নিজের হাত টুকুও ভালো মতে দেখতে পাচ্ছে না অনিশা, আর বর পক্ষ তো বহুদূর । সেই বহুদূরে যেনো একদল দড়ি চেরা রাক্ষুসে ষার বুঝি চোখ দিয়ে গিলে ফেলবে তাকে ।
পাত্র বললো - ওড়নাই যদি থাকিবে মাথায়, দেইখপার আসার কি কাম আছিলো?
দওয়ানির বউ, ওড়নাটা একটু খুইলে দেও তো - ঘটক বললো ।
ওড়নাটা সরাতেই কি অপরূপ সৃষ্টি । বাম দিকে চক্ষু আর কর্ণের মধ্যবর্তী স্থলে লাউ কুমড়োর ডগার মত ঝুলে থাকা চুল গুলো, একেবেকে এসে ঠেকেছে বক্ষ দেশে । আর বক্ষ দেশে কামিজের খাঁজে কিঞ্চিৎ দৃষ্টি বাকা করে কি জানি অনুসন্ধান করতে লাগলো - বিকৃত মস্তিষ্কের পাত্র ।
পাস থেকে পাত্রের বন্ধু এরশাদ তার কানে ফিসফিস করে বলছে - দোস্ত, জিনিসটা কিন্তু খুবই সুস্বাদু হইবে ।
পাত্র: হয়েছে হয়েছে, আর দেইখতে হইবে না । আমার পছন্দ হইছে । আলহামদুলিল্লাহ - সবার আগে ঘটক বললো ।
পাত্র: আমার আব্বায় যাহা কইছে মনে আছে তো ঘটক সাব?
দওয়ানির বউ, ওড়নাটা একটু খুইলে দেও তো - ঘটক বললো ।
ওড়নাটা সরাতেই কি অপরূপ সৃষ্টি । বাম দিকে চক্ষু আর কর্ণের মধ্যবর্তী স্থলে লাউ কুমড়োর ডগার মত ঝুলে থাকা চুল গুলো, একেবেকে এসে ঠেকেছে বক্ষ দেশে । আর বক্ষ দেশে কামিজের খাঁজে কিঞ্চিৎ দৃষ্টি বাকা করে কি জানি অনুসন্ধান করতে লাগলো - বিকৃত মস্তিষ্কের পাত্র ।
পাস থেকে পাত্রের বন্ধু এরশাদ তার কানে ফিসফিস করে বলছে - দোস্ত, জিনিসটা কিন্তু খুবই সুস্বাদু হইবে ।
পাত্র: হয়েছে হয়েছে, আর দেইখতে হইবে না । আমার পছন্দ হইছে । আলহামদুলিল্লাহ - সবার আগে ঘটক বললো ।
পাত্র: আমার আব্বায় যাহা কইছে মনে আছে তো ঘটক সাব?
( দুলাল । টালিখানিয়ার পাশের গ্রাম ব্যাপারী পাড়ার করিম মিয়ার ছেলে । করিম খুব আলেম হলেও তার ব্যাটাটা জালেম হয়েছে বটে । যদিও তাকেও আলেম বলা যায়না । কিন্তু, সাধে কি বলা, গ্রামের মুয়াজ্জিন যে সে । দুলাল খুবই বদ স্বভাবের ছেলে ।
রাগের চোটে দু একবার তার মায়ের গায়েও হাত উঠিয়েছে সে । আর গত বৃহস্পতিবার তো হালের একটা বলদ তাকে সিংয়ের গুত দেওয়ায় পিটিয়েই মেরে ফেলেছে । তাই করিম সাহেব বুদ্ধি আঁটলেন, বিয়ে এক মাত্র সমাধান । আবার মনে মনে আর এক বুদ্ধি আঁটলেন, এক ঢিলে দুই পাখি মারার । মানে, কাজের মেয়ে আর হালের বলদ । এক সাথে দুইটা সম্পত্তি তার । রশিদ চাঁন ঘটক কে ডেকে পন চুক্তি করে ।
করিম: ঘটক সাব, আমার কিন্তু বেশি চাওয়ার নাই । জানেনই তো, আমি একজন আলেম মানুষ । তবে আমার দুইটা বলদ লাইগবোই লাইগবো । আর মেয়েটারে যেমন তেমন সর্ণ পেন্দাইলেই হইবে । আর মেয়েটা সুন্দরী ও কর্মিশ হইলেই হইবে ।)
ঘটক: দুলাল, আলবৎ মনে আছে ।
রাগের চোটে দু একবার তার মায়ের গায়েও হাত উঠিয়েছে সে । আর গত বৃহস্পতিবার তো হালের একটা বলদ তাকে সিংয়ের গুত দেওয়ায় পিটিয়েই মেরে ফেলেছে । তাই করিম সাহেব বুদ্ধি আঁটলেন, বিয়ে এক মাত্র সমাধান । আবার মনে মনে আর এক বুদ্ধি আঁটলেন, এক ঢিলে দুই পাখি মারার । মানে, কাজের মেয়ে আর হালের বলদ । এক সাথে দুইটা সম্পত্তি তার । রশিদ চাঁন ঘটক কে ডেকে পন চুক্তি করে ।
করিম: ঘটক সাব, আমার কিন্তু বেশি চাওয়ার নাই । জানেনই তো, আমি একজন আলেম মানুষ । তবে আমার দুইটা বলদ লাইগবোই লাইগবো । আর মেয়েটারে যেমন তেমন সর্ণ পেন্দাইলেই হইবে । আর মেয়েটা সুন্দরী ও কর্মিশ হইলেই হইবে ।)
ঘটক: দুলাল, আলবৎ মনে আছে ।
দুলালের পাত্রী পছন্দ হওয়ায় বাড়ির আকাশে যেনো নতুন ঈদের চাঁদ দেখা দিয়েছে । আর অনিশার আকাশে কালো মেঘ জমতে শুরু করেছে ।
দুচোখে শুধু বড় বোন ইসার শেষ দেখা অসুস্থ শরীর আর অসহায়ত্বের চাহনি ভেসে উঠে, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ
করছে ।
দুচোখে শুধু বড় বোন ইসার শেষ দেখা অসুস্থ শরীর আর অসহায়ত্বের চাহনি ভেসে উঠে, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ
করছে ।
বর পক্ষ কব্জি ডুবিয়ে খেলো - আহ! অনেক মজাদার খাবার ।
ঘটক বললো - লতা দি, পরশু মৌলভী সাব রে লইয়া আইসা নেওন-দেওন টা সাইরা নিতে হইবে ।
ঘটক বললো - লতা দি, পরশু মৌলভী সাব রে লইয়া আইসা নেওন-দেওন টা সাইরা নিতে হইবে ।
আইচ্ছা ।
ময়-মুরুব্বী নিয়ে কথা পাকা করতে আসার কোনো মানেই হয়না করিম মিয়ার কাছে । যদিও এর কারণ বিয়ের পণ বটে । গ্রামের মানুষ জানলে পরে মুয়াজ্জিনগিরিই থাকবে না । তাই আর কি শুধু ঘটক কে নিয়ে আসা । আসার আগে যোহরের চার রাকাত ফরজ পড়ে উঠতেই যাবে, মুছল্লীরা চোখ ঘুরিয়ে বসিয়ে দেয় ।
- মৌলভী সাব, খাওয়ার শেষে হাত না ধুইলে যেমন শান্তি নাই, মুনাজাত না করিলে তেমন তৃপ্তি নাই ।
- কেউ কেউ বললো - আমার বাচ্চাটা আইজকে কান্না করে নাই তাই আমার বউটা বাচ্চাটারে দুধ পান করায় নাই । তেমন আমরা আল্লাহর কাছে সবাই মিলে হাত তুইলে না চাইলে আল্লাহ কি কিছু দিবেন?
- আবার কেউ বললেন - এত বড় সোয়াবের কাজ বাদ দেওয়া যাইবে না । না কইরলে গোনা হইবে, আল্লাহ মাইরবো ।
- কেউ কেউ বললো - আমার বাচ্চাটা আইজকে কান্না করে নাই তাই আমার বউটা বাচ্চাটারে দুধ পান করায় নাই । তেমন আমরা আল্লাহর কাছে সবাই মিলে হাত তুইলে না চাইলে আল্লাহ কি কিছু দিবেন?
- আবার কেউ বললেন - এত বড় সোয়াবের কাজ বাদ দেওয়া যাইবে না । না কইরলে গোনা হইবে, আল্লাহ মাইরবো ।
করিম মিয়া সত্যটা জেনেও একই স্রোতে গা এলিয়ে দেয় । নইলে আবার মুয়াজ্জিনগিরি থাকবে না ।
সে মুনাজাতে বলে - 'হে আল্লাহ, তোমার যাকে পছন্দ হয় তার উছিলায় সবাইকে মাফ করে দাও, ইয়াআরহামার রহিমিন ।'
সে মুনাজাতে বলে - 'হে আল্লাহ, তোমার যাকে পছন্দ হয় তার উছিলায় সবাইকে মাফ করে দাও, ইয়াআরহামার রহিমিন ।'
ফয়সাল - বিষয়টাকে অন্য চোখে দেখে । সে তখন সবাইকে বলে - 'সবাই মিলে মুনাজাত করায় যদি একজনের উছিলায় সবাইকে মাফ করা হয়, তাহলে একজন গোনাহগারের উছিলায় সবাই গোনাহগার হবে না কেনো? আমার মনে হয় গভীর রজনীতে, নামাজের মধ্যে, নামাজের পরে, কাজ করার সময়, কাজ ছাড়ার সময়, প্রতি মুহূর্তে একা একা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা উচিত ।'
এই কথা বলার জন্য সবাই ফয়সাল কে মারতে থাকে ( এই মার চারটি খানি মার নয়) আর জামাত থেকে বয়কট করে দেয় । করিম মিয়া খুশ খুশ করে হাসতে থাকে আর ঘটক কে নিয়া রওনা দেয়।
বাপ মা মরা ফয়সাল ছোট বেলা থেকেই তার নানি বারি ব্যাপারী পাড়ায় থাকে ।
যখন কাব্য খুনের অপরাধে বন্দী, মতিন মদ্য নেশায় চাঁদের বাসিন্দা,
সিরাজ বাপ মরার শোকে পড়াশুনা ছেড়ে ধীরে ধীরে সংসারের হাল নেয়,
ফয়সাল তখন পড়াশুনার একনিষ্ট পূজারী । সে ছিল সত্যান্বেষী জ্ঞান পিপাসু । সে যেখানে হক কথা বলছে, সমাজ সেখানে ধর্ম মনে করছে আর একটা । সে কি পারবে, বহমান স্রোত বেধে দিতে ? যে স্রোতের পানির প্রতিটি ফোঁটা এক এক টা অন্ধ বিশ্বাসী, লোভ লালসায় লোভাতুর যুবক? সে কি পারবে না? সেই অসীম দরিয়ায় নব পুষ্পের ঘ্রাণ ছড়াতে?
মরুভূমি নামক মরা হৃদয় গুলিতে জ্ঞানের বর্ষণ ঘটাতে?
যখন কাব্য খুনের অপরাধে বন্দী, মতিন মদ্য নেশায় চাঁদের বাসিন্দা,
সিরাজ বাপ মরার শোকে পড়াশুনা ছেড়ে ধীরে ধীরে সংসারের হাল নেয়,
ফয়সাল তখন পড়াশুনার একনিষ্ট পূজারী । সে ছিল সত্যান্বেষী জ্ঞান পিপাসু । সে যেখানে হক কথা বলছে, সমাজ সেখানে ধর্ম মনে করছে আর একটা । সে কি পারবে, বহমান স্রোত বেধে দিতে ? যে স্রোতের পানির প্রতিটি ফোঁটা এক এক টা অন্ধ বিশ্বাসী, লোভ লালসায় লোভাতুর যুবক? সে কি পারবে না? সেই অসীম দরিয়ায় নব পুষ্পের ঘ্রাণ ছড়াতে?
মরুভূমি নামক মরা হৃদয় গুলিতে জ্ঞানের বর্ষণ ঘটাতে?
- "কাব্য? নতুন দুনিয়ায় স্বাগত ।" ইন্সপেক্টর ।
অতঃপর কাব্য আজ মুক্ত ।
অতঃপর কাব্য আজ মুক্ত ।
কৃতজ্ঞ আমি সেই খোদার কাছে, যিনি আমায় চিনিয়েছেন, আঁধারের রং । কাব্য ।
- "বাপ? তরী বাইন্ধা রাইখছি, অনেক পথ পাড়ি দিতে
হইবে । ধীরেন ।
- কাকা? "প?" । কাব্য ।
- "জানিনে বাপ ।" ধীরেন ।
আজ ৮টি বছর পরে, ফিরে এলো নিজ গৃহে ।
সবকিছু আগের মতই আছে, ধুলো জমেছে গোটা ঘরে ।
মাকড়সা আধিপত্য বিস্তার করেছে বিছানায়, চেয়ারে,
টিনের চালে । কেমন জানি মরুভূমি হয়ে আছে বাড়িটা ।
সবই থাকলেও কি যেন নেই । ও হ্যা, তার মা নেই, নেই পোষা বিড়ালটাও। আর বাবাকে সে তো দেখেইনি।
কাব্যর সূর্যের আলো সহ্য হচ্ছে না । সহ্য হচ্ছে না মৃদু বাতাস আর ফুলের সুবাস । উন্মাদ হয়ে খুজতে লাগলো "প" এর রহস্য ।
- "বাপ? তরী বাইন্ধা রাইখছি, অনেক পথ পাড়ি দিতে
হইবে । ধীরেন ।
- কাকা? "প?" । কাব্য ।
- "জানিনে বাপ ।" ধীরেন ।
আজ ৮টি বছর পরে, ফিরে এলো নিজ গৃহে ।
সবকিছু আগের মতই আছে, ধুলো জমেছে গোটা ঘরে ।
মাকড়সা আধিপত্য বিস্তার করেছে বিছানায়, চেয়ারে,
টিনের চালে । কেমন জানি মরুভূমি হয়ে আছে বাড়িটা ।
সবই থাকলেও কি যেন নেই । ও হ্যা, তার মা নেই, নেই পোষা বিড়ালটাও। আর বাবাকে সে তো দেখেইনি।
কাব্যর সূর্যের আলো সহ্য হচ্ছে না । সহ্য হচ্ছে না মৃদু বাতাস আর ফুলের সুবাস । উন্মাদ হয়ে খুজতে লাগলো "প" এর রহস্য ।
এদিকে ।
"একপাক্ষিক চুক্তিতে বর্ডার ভাইঙ্গে সেনারা আইসে পরান উপারি ফেলিবার চায় । আম্মা, লতা দি কইছে এই বিয়া হইবো । তুই পালাইয়ে চইলে জা মা " - ধিরু বললো । আরো বললো - পাত্রের বাপ ঘটকরে নিয়া আইসা লতাদির সাথে বিয়া পাকা কইরা ফেইলছে ।
দুইটা হালের গরুও দাবি কইরছে ।
সামনের শুক্কুরবার বিয়া হইবে ছাপ ছাপ জানাইয়া দিছে । তুই পলাইয়া যা আম্মা ।
"একপাক্ষিক চুক্তিতে বর্ডার ভাইঙ্গে সেনারা আইসে পরান উপারি ফেলিবার চায় । আম্মা, লতা দি কইছে এই বিয়া হইবো । তুই পালাইয়ে চইলে জা মা " - ধিরু বললো । আরো বললো - পাত্রের বাপ ঘটকরে নিয়া আইসা লতাদির সাথে বিয়া পাকা কইরা ফেইলছে ।
দুইটা হালের গরুও দাবি কইরছে ।
সামনের শুক্কুরবার বিয়া হইবে ছাপ ছাপ জানাইয়া দিছে । তুই পলাইয়া যা আম্মা ।
অনিশা কোনো কথা বলে না । নিশ্চুপ হয়ে বসে আছে তার মায়ের সন্মানের দিকে চেয়ে । নিজেকে যেনো এবার সপে দিতে হবে নরখাদকদের হাতে ।
আমরা ঘন জঙ্গলের ভিতর কখনো প্রবেশ করি না । তার মানে এই না যে, সেখানে কোনো ফুল ফোটেনি । ভোরের শুভ্র রেখার ছন্দে তাল মিলিয়ে সুভাস ছড়িয়ে গোটা জঙ্গলকে মাহেল করে দেয় । সূর্য অস্ত যাওয়ার সাথে সাথে আবার ঝরে পরে বিলীন হয়ে যায় । এইতো সেদিনও, আঁধারে যে ফুলটি জন্ম নিলো, আঁধারেই সেটি ঝরে গেল ।
এভাবেই কত ফুল অজান্তেই ঝরে যায়, ক জনই বা তার খবর রাখে ।
এভাবেই কত ফুল অজান্তেই ঝরে যায়, ক জনই বা তার খবর রাখে ।
পর্ব ৪
আজ শুক্রবার ।
পৃথিবী পৃষ্ট হতে আজ এক কালো অধ্যায় লেখার জন্য বিরাট আয়োজন ।
পাত্রপক্ষ এসেছে । এসেছে করিম মিয়া, আরও এসেছে করিম মিয়ার খাস লোক তিনজন । পিন্টু খুবই আনন্দিত । লতার মুখে নাটকীয় কান্না । অনিশাকে বধূ বেশে সাজানো হয়েছে । এই প্রথম, মতিন দুলালকে একটা বিদেশী বোতলের কিছু টলমলে পানি পান করিয়েছে । তাই দুলাল মাথা তুলে ফের ঢলে পড়ছে । এদিকে যেনো নজর নেই কারোর । এই পানীয় কি আর এমনি এমনি পান করানো? না । এরশাদ আর মতিন একই প্রজাতির দুই পেশাস । মতিন এলাকা ভিত্তিক মদ্য-লিডার । তার বিভিন্ন পানীয় সম্পর্কে অগাত জ্ঞান ।
সে আর এরশাদ পরিকল্পনা করে তাকে এই বিশেষ পানীয় দিয়েছে, যেটা খেলে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বড় যোদ্ধাটাও নিজ শির উঠাতে ব্যর্থ হবে । এদিকে নিশ্চুপ হয়ে ঘরের কোণে অঝোরে কেঁদে যাচ্ছে ইভা উইকস । বারান্দায় মাটিতে বসে কপালে হাত দিয়ে নীরব কান্নায় ভেংগে পড়েছে ধিরু । অপরদিকে পিন্টু আনন্দ বিলাচ্ছে । আর একজনের চোখে পানি নেই । কি হয়েছে? সাত আসমান ভেংগে পড়েছে তার বুকের উপর । বাক-রুদ্ধ হয়ে বয়ে বসে আছে পিঁড়িতে । তার অসহায় চোখের চাহনি দেখলে মনে হয়, এ চাহনি সে রকম - মৃত্যুদণ্ড সম্পন্ন করার মাত্র ১০ মিনিট আগে কোনো কয়েদির চোখের চাহনি যে রকম হয় ।
সেই অনিশা ।
সে আর এরশাদ পরিকল্পনা করে তাকে এই বিশেষ পানীয় দিয়েছে, যেটা খেলে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বড় যোদ্ধাটাও নিজ শির উঠাতে ব্যর্থ হবে । এদিকে নিশ্চুপ হয়ে ঘরের কোণে অঝোরে কেঁদে যাচ্ছে ইভা উইকস । বারান্দায় মাটিতে বসে কপালে হাত দিয়ে নীরব কান্নায় ভেংগে পড়েছে ধিরু । অপরদিকে পিন্টু আনন্দ বিলাচ্ছে । আর একজনের চোখে পানি নেই । কি হয়েছে? সাত আসমান ভেংগে পড়েছে তার বুকের উপর । বাক-রুদ্ধ হয়ে বয়ে বসে আছে পিঁড়িতে । তার অসহায় চোখের চাহনি দেখলে মনে হয়, এ চাহনি সে রকম - মৃত্যুদণ্ড সম্পন্ন করার মাত্র ১০ মিনিট আগে কোনো কয়েদির চোখের চাহনি যে রকম হয় ।
সেই অনিশা ।
মৌলভি সাব সব নীতিমালা সম্পন্ন করে যখনই দুলালকে কবুল বলতে বলল, ঠিক সেই মুহূর্তে করিম মিয়ার দরাজ কন্ঠে ভেসে আসলো - ঘটক সাব, সব কিছু (হালের গরুসহ অন্যান্য পন সমূহ) প্রস্তুত তো?
- 'আপনি চিন্তা কইরবেন না । সব প্রস্তুত আছে ।' ঘটক বলল ।
অতঃপর বিবাহ সম্পন্ন হলো ।
দুলাল গোঙাতে গোঙাতে বলল - আব্বা, আমার ঘুম চলি আইসছে আমি ঘুমাইবো, আমি বাড়ি যাইবো । আমার এসব একদমই ভালো লাইগছে না ।
- 'ওরে থাম, থাম আর বলিইস নে । এইতো, সব বুঝিইয়ে দিলেই তো আমরা চলি যাই ।'
করিম মিয়া বলল ।
করিম মিয়া বলল ।
লতা জোরে জোরে চেঁচিয়ে কান্না করছে ।
বিয়ের সমস্ত চুক্তি সম্পন্ন করে এবার বিদায় দেবার পালা ।
বিয়ের সমস্ত চুক্তি সম্পন্ন করে এবার বিদায় দেবার পালা ।
এমন সময় কাঁদো কাঁদো কন্ঠে ধীরু একটা গান ধরলো -
"ওরে বউ মনি, রে বউ মনি,
মোর প্রিয় বউ মনি, ভাল থাকিস বেলায় বেলায়। ভুলিস নে জানি ।
মোর প্রিয় বউ মনি, ভাল থাকিস বেলায় বেলায়। ভুলিস নে জানি ।
ওরে প্রিয় মনি, বিদায়ের এই ক্ষণ,
মন যে বুইঝে তোর না বলা বেইদন।
মন যে বুইঝে তোর না বলা বেইদন।
মায়ার এই কঠিন বাঁধন, তুই পেরিয়ে যাইবি,
(____কান্না____), তবু তুই যাইবি।
(____কান্না____), তবু তুই যাইবি।
মোর প্রিয় মা, এ যে বিধির বিধান,
তোর জীবন দিইয়ে গইড়ে উইঠবে অইন্য কারো স্থান ।
তোর জীবন দিইয়ে গইড়ে উইঠবে অইন্য কারো স্থান ।
ওরে বউ মনি, রে বউ মনি,
মোর প্রিয় বউ মনি, ভাল থাকিস বেলায় বেলায়। ভুলিস নে জানি ।
মোর প্রিয় বউ মনি, ভাল থাকিস বেলায় বেলায়। ভুলিস নে জানি ।
আকাশে মেঘ জমেছে, তোর চোখে জল,
তোকে ছেড়ে কেমন করে থাকব রে মা বল ।
তোকে ছেড়ে কেমন করে থাকব রে মা বল ।
তোর পায়ের নূপুরের ধ্বনি আজ শেষবার শুনি,
ভুলিস নে মা জানি ।
ভুলিস নে মা জানি ।
ওরে বউ মনি, রে বউ মনি,
মোর প্রিয় বউ মনি, ভাল থাকিস বেলায় বেলায়। ভুলিস নে জানি ।"
মোর প্রিয় বউ মনি, ভাল থাকিস বেলায় বেলায়। ভুলিস নে জানি ।"
এটাই শেষ গান।
অতঃপর বিদায়।
অতঃপর বিদায়।

